মুখে আল্লাহর নাম আর শরীরে অর্ধনগ্ন পোষাক

ব্যাপার টা নিয়ে লিখবো কিনা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। কিছুদিন আগেই আমি বাংলাদেশ ব্যান্ড নিয়ে আর ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি আমাদের ঝুকে যাওয়া নিয়ে লিখেছিলাম। এখন সম্প্রতি একটা বিষয় এর  প্রতি আমি খুবই অবাক। ভারতীয় বাংলা একটা মুভি বস ২ যেটা জীৎ অভিনিত বস এর পরের সিকুয়েল। কিন্তু এবার এই মুভি বস ২ বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় তৈরি হচ্ছে। মুভিতে একটা গান দেখলাম যাকে আমরা প্রত্যেক সিনেমার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করি, অর্থাৎ যাকে বলা হয় আইটেম গান। গানটার টাইটেল “আল্লাহ মেহেরবান” । প্রথম প্রশ্ন আল্লাহর নাম নিয়ে আইটেম গান কিভাবে হতে পারে? আচ্ছা আমাদের বর্তমান সময়ের বিউটি কুইন মিস নুসরাত ফারিয়া কে গানটি তে অতি সুশীল ভঙ্গিতে নাচতে দেখা যায়। যেটাকে আমাদের সমাজ সুস্থ সংস্কৃতি বলে ধরে নিয়েছে। এ সমাজকে কি বলে কৃতজ্ঞতা জানাবো আমার তার ভাষা আমার জানা নেই।

 

 

গানের শুধু নামই না, পুরো গানের কথাতেই সেখানে সৃষ্টীকর্তা কে মেনে চলা, সৎ পথে চলার কথা বলা আছে। গানের লেখক আর কোরিওগ্রাফার দের মধ্যে কি ব্যাক্তিগত শত্রুতা আছে কিনা আমি জানিনা। কিন্তু ওই সব কথা গুলোর সাথে খুব সুন্দর ভাবে মিল করে মিউজিক আর নাচের স্টেপ সিলেকশন করা হয়েছে। আমি জানিনা এই লেখার পর সমাজ আমাকে মেনে নিবে কিনা। না মেনে নিলেও আমার তাতে যাই আসবে না। আমার ব্যাপার টা দেখেই অনেক খারাপ লেগেছে। আমি এমন দিন দেখতে চাইনি। একটা হিন্দি গান আছে, সাইফ আলী খান আর ক্যাটরিনা কাইফ অভিনিত “ফ্যান্টম” মুভিতে। গানটার নাম “আফগান জালেবি” । এই গানটা সম্পুর্ণভাবে ওই গানের কোরিওগ্রাফি থেকে নেওয়া তা সহজেই বোঝা যায়। জানিনা আমাদের দেশের একটা সুনামধন্য একটা কোম্পানি এটা কিভাবে করলো। আমি মুভি জগত সম্পর্কে খুব একটা বুঝি না। তাদের বিজনেস, তাদের গ্ল্যামার, তাদের স্ট্যাটাস বুঝি না। এটা বলতে চাই এই ধরনের গান এমনিতেও আমাদের দেশের সংস্কৃতির সাথে যায় না। তবুও এই সংস্কৃতি আমরা অনেক আগেই গ্রহণ করে নিয়েছি। তারপর মুখে আল্লাহর নাম নিয়ে শরীরে আধুনিক অর্ধনগ্ন পোষাক এটা কেওই মেনে নিবে না।

 

 

আমি জানি এক্ষেত্রে কেও কোন কথা বলবে না। আমরা যখন হাতে ইলেক্ট্রিক গীটার নিয়ে একটু রক গানের প্রতি ভালবাসা দেখাতে যাই তখন আমরা অভদ্র আর অসভ্য হয়ে যাই। কিন্তু এক্ষেত্রে সমাজ তাদের বাহবা দিবে। “বাহ আসলেই তো অনেক নতুনত্ব আছে গানটার মধ্যে, আসলেই আমরা আধুনিক হয়ে যাচ্ছি, এইগুলা গ্ল্যামার এর অংশ যারা ক্ষ্যাত তারা এগুলা বুঝবে না” আমি ক্ষ্যাত , এই অর্ধনগ্ন গান নিয়ে আমি কথা তুলেছি তাই আমি ক্ষ্যাত। এই আপনারা দেশের নিরাপত্তার জন্য বিদেশি কোন ব্যান্ড কে এয়ারপোর্ট থেকে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করেন, এ আপনারা বড় বড় অনুষ্ঠানে বিদেশী নায়িকা নিয়ে এসে নৃত্য করান, গীটার এর আওয়াজ পেলে চেতনা জাগ্রত হয় আপনাদের, ব্যান্ড সঙ্গীতশিল্পি রা মাদকাসক্ত। আর যখন এমন কথা লিখে তাতে এমন সূর আর মিউজিক দিয়ে অর্ধনগ্ন নাচ করানো হয় এবং তা গৌরবের সাথে দেশ বিদেশ ব্যাপি স্বিকৃত হয় আধুনিকতা বলে তখন আপনার চেতনা কোথায় থাকে ? আমি জানি আমাকে সবাই মনে মনে গালি দিবেন। আপনার ফোনে এই গানের ভিডিও ডাউনলোড করে রাখবেন আর মাঝে মাঝে দেখবেন। কেও কেও আধুনিকতার জন্য আমার সাথে গলা মিলাতে ভয় করবে। যদি সুশীল সমাজ আমাকে মেনে না নেয়, যদি আমাকে ক্ষ্যাত উপাধী দিয়ে দেয়। ও্যারফেজ এর একটা গান আছে জানেন ? সেই গানটা আজ বলতে অনেক ইচ্ছা করছে “হে সমাজ, আমি চাইনা তোমার আশ্রয়” । আমরাই হয়তো শেষ প্রজন্ম হবো যারা ছোট থেকে সালমান শাহ আর রিয়াজ দের পারিবারিক মুভি দেখে বড় হয়েছি। আপনার সন্তান যখন আল্লাহ মেহেরবান এর সাথে এই নাচ দেখবে তখন সে কি শিখবে বলে আপনার মনে হয় বলেন তো ? কি সমাজ উপহার দিচ্ছেন আমাদের দিনে দিনে ? নিজেদের ঐতিহ্য দিন দিন ভুলে গেলে একদিন অনেক খারাপ দিন দেখা লাগবে।

 

 

গানটার প্রথমে দেখা যায় একটা মজলিশ এর মত এলাকা যেখানে টাকা দিয়ে কেনা মেয়েদের নাচ দেখতে আসে সবাই। অনেকটা আরব দেশের রূপকথার গল্পের মত করে সাজানো। নায়ক সেখানে যায় এবং নায়িকা তার শরীর প্রদর্শনী শুরু করে। সাথে মুখে আল্লাহর নাম নিয়ে নাহক কে আহবান করে। গানের সাথে শরীর দেখানোর মত এক অদ্ভুদ ভঙ্গিতে নাচ দেখা যায়। আইটেম গান টা আমরা ভারতীয় দের থেকে পেয়েছি। এবং এই গানের পোষাক, নাচের ধরন সবই পাশের দেশ থেকে নিয়ে আমরা সিনেমা হলে দর্শক কে আকর্ষণ করা হচ্ছে। এসব এখন এদেশে কোন ব্যাপার না। যেদেশে ধর্ষণের পর বাবা মেয়ে একসাথে ট্রেনের নিচে মাথা দিলে কেও কানে নেয় না। তাদের জন্য সামান্য গানে কোন যাই আসবে না। কিছুদিন পর বিয়ে বাড়ি, মানুষের ফোনে ফোনে, পিকনিকে এই গানটা বাজতে শোনা যাবে, তার সাথে সবাইকে নাচতেও দেখা যাবে। কেও কিছু বলবে না। বলবে তখন যখন আমি কোন কন্সার্ট দেখতে যাবো।

ছবিঃ গুগল

প্রথম পোস্ট

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*