৩৯% শিক্ষার্থী গোপনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে

অভিভাবকদের না জানিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ৩৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। মা-বাবা কিংবা আইনি অভিভাবকের অজান্তে দৈনিক ২-৩ ঘণ্টা ইন্টারনেট দুনিয়ায় কাটায় তারায়।

শিক্ষার্থীদের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনামূলক কর্মশালায় অংশ নেওয়া ১০ হাজার ২২০ শিক্ষার্থীর উপর চালানো জরিপের ফলাফলে এমন তথ্য জানা গেছে। কর্মশালার আয়োজক তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কন্ট্রোলার অব সার্টিফায়িং অথোরিটিজ (সিসিএ) এবং আয়োজন সহযোগী ফোর ডি কমিউনিকেশন যৌথভাবে জরিপটি চালিয়েছে।

 

জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৯ শতাংশ ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করে। তাদের মধ্যে ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ভাইবার, ইমো, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি ব্যবহার করে। এর মধ্যে শুধু ফেসবুজ ব্যবহারকারী ৯৪ শতাংশ।

জরিপের ফলাফলে জানা গেছে, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী আইসিটি আইন-২০০৬ সম্পর্কে কিছুই জানে না।

দেশের ৭টি বিভাগের ৪০টি স্কুল এবং কলেজে গত এপ্রিল থেকে এই কর্মশালার আয়োজন করে সিসিএ। ১ জুন রাজধানীর আইডিয়াল কলেজে সর্বশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের প্রযোজনীয় সচেতনতা, অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা এবং আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এই কর্মশালায়।

 

 

কর্মশালায় বক্তরা বলেন, গুজবে কান না দিয়ে যৌক্তিক আচরণ করে, লোভ নিয়ন্ত্রণ করে সাইবার জগতে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচা সম্ভব।

‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যাওয়ারনেস ফর ইউমেন এমপাওয়ারমেন্ট’ শিরোনামের কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সুবীল কিশোর চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, ঢাকা মেট্রোপলিন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্ট ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, র‌্যাবের পরিচালক উইং কমান্ডার ফরহাদ হোসেন মাহমুদ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস.এম. জাকির হোসাইন।

সিসিএ এর নিয়ন্ত্রক আবুল মানসুর মোহাম্মদ সারফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এই কর্মশালা পরিচালনা করেন ফোর ডি কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল ইমরান। শেষ কর্মশালায় আইডিয়াল কলেজ, ধানমণ্ডি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বিসিএসআইআর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*