থেরেসা মে’র দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি

  ব্রিটেনের নির্বাচনে থেরেসা মে’র কনজারভেটিভ পার্টি এগিয়ে থাকলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
সমর্থন কমলেও এবারের নির্বাচনে পাল্লা থেরেসা মে’র দিকেই ভারী বলে দাবি করেছিল জনমত সমীক্ষা। কিন্তু শুক্রবার সকালে ফল ঘোষণা হতেই ছবিটা বদলাতে শুরু করে। এ দিন মোট ৬৫০টি আসনের মধ্যে ৬৪৬টির ফল ঘোষণা হওয়ার পর দেখা যায় ৩১৫টি আসন পেয়েছে কনজারভেটিভ পার্টি। যা গতবারের তুলনায় ১১টি আসন কম। অন্যদিকে, জেরেমি বার্নার্ড করবিনের লেবার পার্টি পেয়েছে ২৬১টি। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি পেয়েছে ৩৫টি এবং টিম ফ্যারনের লিবারেল ডেমোক্র্যাট পেয়েছে ১২টি। ডেমোক্র্যটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি পেয়েছে ১০টি আসন।

গতবারের তুলনায় এবারে লেবার পার্টির আসন বাড়লেও ম্যাজিক ফিগার থেকে অনেকটাই দূরে তারা। পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে কনজারভেটিভ পার্টির দরকার আরও ১১টি আসন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থেরেসা মে সে ক্ষেত্রে যদি লিবারেল ডেমোক্র্যাট-এর সমর্থন পান, তা হলেই সরকার গঠন সম্ভব হবে। গোটা নির্বাচনের নাটকীয় মোড় এখানেই। দোরগোড়ায় এসেও একক সংখ্যগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ব্রিটেনের সঙ্গে মে’রও ভাগ্য ঝুলে গেলো।
ব্রেক্সিটের পরে দেশের স্থিতিশীলতা মজবুত করার কথা বলে গত এপ্রিলে তড়িঘড়ি ভোট এগিয়ে আনার কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। সেই অনুযায়ী দেশের ৪০ হাজারের বেশি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়। বৈদ্যুতিক ভোটিং যন্ত্র নয়, এখনও ব্যালট পেপারেই ভোট হয় ব্রিটেনে। এবার প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছেন।

এ বারের নির্বাচনে কোনও দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি-না নির্বাচনের পর পরই সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাদের সে আশঙ্কাই সত্যি হল।এক দিকে লেবার পার্টির কর্পোরেট সংস্থাগুলোর ওপর বেশি কর চাপিয়ে সেই টাকা সামাজিক-সুরক্ষা খাতে খরচের প্রস্তাব। অন্য দিকে, সরকারি ঋণ কমিয়ে সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয়ভার কাঁটছাঁটের প্রস্তাব নিয়ে এ বারের নির্বাচনের লড়াইয়ে নেমেছিল কনজারভেটিভ পার্টি। ব্রিটেনবাসী থেরেসা মে-র প্রতি আস্থা রাখলেও, সমালোচকরা বলছেন পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেননি।

 

[খবরটি এখান থেকে এসেছে]

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*