বাংলাদেশের জন্য সেই ডারউইনে প্রস্তুতি অস্ট্রেলিয়ার

ক্রীড়া প্রতিবেদক : টানা ক্রিকেটের পর আপাতত বিশ্রামে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করার পরেও সপ্তাহ দুয়েকের মতো ক্রিকেট ছেড়ে থাকার অবসর তাঁদের। তবে আগস্টেই যেহেতু দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের হোম সিরিজ, তাই বিশ্রাম খুব বেশি লম্বা হওয়ারও সুযোগ নেই। ১০ জুলাই থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে মুশফিকুর রহিমদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পাশাপাশি সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যে ২৯ সদস্যের প্রাথমিক দলও ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে।

 

 

এই ক্রিকেটারদের নিয়ে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই শুরু হয়ে যাবে কন্ডিশনিং ক্যাম্প। যদিও এর শুরু থেকেই হেড কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহেকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। তিনি না থাকলেও প্রস্তুতি আটকে থাকার কোনো ব্যাপার নেই। অনুশীলন শিবিরের শুরুর দিকটা অবশ্য মিস করার কথা আছে কয়েকজন ক্রিকেটারেরও। এই যেমন ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর ন্যাটওয়েস্ট ব্লাস্টে এসেক্স ঈগলসের হয়ে খেলার প্রস্তাব আছে তামিম ইকবালের। এখন ছুটি কাটাতে সিঙ্গাপুরে থাকা বাংলাদেশ দলের ওপেনার সে প্রস্তাব গ্রহণ করে থাকলে জুলাইয়ের শুরুর দিকেই আবার ইংল্যান্ডে যেতে হবে তাঁকে। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এখনো অনাপত্তিপত্র চেয়ে আবেদন করেননি। তবে তিনি যান বা না যান, চোটের কারণে অনুশীলন শিবিরের শুরু থেকে পেসার রুবেল হোসেনের না থাকাটা নিশ্চিত। নিশ্চিত করেই শুরু থেকে থাকছেন না প্রাথমিক দলে ডাক পাওয়া এনামুল হক ও লিটন কুমার দাশও। ১ জুলাই হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) স্কোয়াডের হয়ে তাঁরা যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া সফরে।

 

 

তাঁরা যে অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন, সেই অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফরের টেস্ট দল ঘোষণা করে দিয়েছে দুই মাস আগেই। এবার জানা গেল ১৩ সদস্যের দলের ব্যাপ্তি বাড়তে পারে আরো। সেই সঙ্গে এটাও জানা গেল যে বাংলাদেশে আসার আগে সফরপূর্ব একটা অনুশীলন শিবিরও করে আসছে তারা। যেমনটি তারা এই বছরের শুরুতে ভারতে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি খেলতে আসার আগে করে এসেছিল দুবাইতে। এবার অবশ্য দেশের বাইরে নয়, বাংলাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে ধাতস্থ হওয়ার ব্যাপারটি স্টিভেন স্মিথরা সারবেন নিজেদের মাটিতেই। তাদের কন্ডিশনিং ক্যাম্পের ভেন্যু ডারউইন। যেখানকার আলো এবং হাওয়া অনেকটা বাংলাদেশের মতো বলেই ডারউইনকে বেছে নেওয়া। ১০ আগস্ট থেকে ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুশীলনের শুরুতেই অবশ্য থাকছেন না ১৩ সদস্যের দলে ঠাঁই পাওয়া হিলটন কার্টরাইট ও অ্যাস্টন অ্যাগার। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে ফিরেই ১২ আগস্ট অনুশীলন শিবিরে যোগ দেবেন তাঁরা। ‘এ’ দলের সফর শেষে আরেকজন ফাস্ট বোলারকেও মূল দলে নির্বাচকরা অন্তর্ভুক্ত করবেন বলে জানা গেছে। ১৮ আগস্ট বাংলাদেশের পথে রওনা দেওয়ার আগে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়া দলের একটি তিন দিনের ম্যাচও খেলার কথা আছে।

 

যেটি শুরু হওয়ার কথা আছে ১৪ আগস্ট। সাত দিনের অনুশীলন শিবিরের কথা নিশ্চিত করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) টিম পারফরম্যান্স ম্যানেজার প্যাট হাওয়ার্ড বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সফরকে সামনে রেখে অনুশীলন শিবির আয়োজনের ক্ষেত্রে যে সহযোগিতা এবং সমর্থন আমরা নর্দান টেরিটরি (এনটি) সরকার ও এনটি ক্রিকেটের কাছ থেকে পেয়েছি, এতে আমরা যারপরনাই কৃতজ্ঞ। আসন্ন সফরে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ডারউইনের প্রস্তুতি শিবিরটা আদর্শই হবে। তা ছাড়া মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডের সুযোগ-সুবিধাদিও প্রথম সারির। ’ ডারউইনের সঙ্গে অবশ্য নিবিড় একটা সম্পর্ক আছে বাংলাদেশেরও। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট সফরের একটি ম্যাচ হয়েছিল সেখানেই। আর ২০০৮ সালে সবশেষ দ্বিপক্ষীয় সফরে হয়েছিল শুধু ওয়ানডেই। যে সিরিজের তিনটি ম্যাচই হয়েছিল ডারউইনে। তথ্যসূত্র : ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ওয়েবসাইট

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*