ক্রিকেটীয় কুটনীতিতে ‘অপশন সি’ বাংলাদেশের জন্য সুখবর

প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পথে আইসিসি’র ‘অপশন সি’ নামক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এখনকার ধরনটা অনেকটাই পাল্টে যাবে। তাতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বদলে ক্রিকেট হবে লিগ-ভিত্তিক খেলা। আর লীগ-ভিত্তিক এ খেলায় ক্রিকেটীয় কুটনীতিতে বাংলাদেশের মতো দলকে আমন্ত্রণ জানাতে বা সফর করতে বাধ্য হবে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো। টেস্ট অভিষেকের ১৭ বছরের মাথায় ভারতে গিয়ে একটি টেস্ট খেলতে পেরেছে বাংলাদেশ। সাত বছর পর গেল ইংল্যান্ড সফরে। আবার অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে টেস্ট খেলতে আসছে ১১ বছর পর, বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় সর্বশেষ টেস্ট খেলেছে ১৪ বছর আগে। অপশন সি’ র এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই ভারসাম্যহীনতা আর থাকবে না।

 

লিগ পদ্ধতি চালু হলে চার বছরের মেয়াদে সব কটি দল পরস্পরের সঙ্গে কমপক্ষে একটি করে হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজ খেলতে বাধ্য থাকবে। এতেই বাংলাদেশের টেস্ট খেলা ও সফরের সংখ্যা বাড়বে। শুধু তা-ই নয়, একই দলের বিপক্ষে বারবার খেলার একঘেয়েমি থেকেও অনেকটা মুক্তি পাবে ক্রিকেট। চার বছরে টেস্টের শীর্ষ নয়টি দল পরস্পরের সঙ্গে ১২টি সিরিজ খেলবে। ৬টি দেশে, ৬টি দেশের বাইরে। বছরে তিনটি করে সিরিজ। কোনো দল প্রথম বছরে দুটি হোম সিরিজ খেললে পরের বছর হোম সিরিজ খেলবে একটি। আবার কোনো দল প্রথম বছরে একটি হোম সিরিজ খেললে পরের বছর খেলবে দুটি হোম সিরিজ। এভাবে চার বছরের চক্রে ১২টি সিরিজ পূর্ণ হবে। প্রতি সিরিজে কমপক্ষে দুটি করে টেস্ট রাখতেই হবে। প্রস্তাবিত এই কাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে ২০১৯-২০ মৌসুমে বাংলাদেশ নিজেদের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার পাশাপাশি ভারত ও শ্রীলঙ্কা সফরে যাবে। ২০২০-২১ মৌসুমে বাংলাদেশ নিজেদের মাটিতে খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজ।

 

২০২১-২২ মৌসুমে নিজেদের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার পর বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাবে। ২০২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলবে। সফর করবে দক্ষিণ আফ্রিকা। বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সিরিজে দুটি দল মুখোমুখি হয়, ওই সিরিজের জয়ী দল পায় ট্রফি। ওই দুটি দল ছাড়া সেই সিরিজ নিয়ে বাকি ক্রিকেট বিশ্বের তেমন কোনো আগ্রহ সাধারণত থাকে না। কারণ, সেই সিরিজটি বাকি ক্রিকেট দলগুলোর স্বার্থের সঙ্গে জড়িত নয়। লিগ পদ্ধতি চালু হলে যা হবে: রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকেরা যেমন বার্সেলোনার সব কটি ম্যাচ খেয়াল করেন; একইভাবে বার্সার সমর্থকেরা রিয়ালের ম্যাচগুলো নজরে রাখেন। এতে সব কটি সিরিজ সম্পর্কে বাকি দলগুলোও খোঁজখবর রাখবে।

 

আপাতত টেস্টে শীর্ষ নয়টি দল এই লিগে খেলার সুবিধা পাচ্ছে। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর থেকে ২০২৩ বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই লিগ শেষ হবে। শীর্ষ দুটি দল খেলবে প্লে অফ। তাদের মধ্যে নির্বাচিত হবে চ্যাম্পিয়ন। এই লিগ পদ্ধতিতে রেলিগেশনও থাকতে পারে। কারণ, বর্তমানে ১২টি টেস্ট খেলুড়ে দলের শেষ তিনটি দল এই লিগে থাকছে না। রেলিগেশন ও প্রমোশনের এই পদ্ধতি অবশ্য এখনো পরিষ্কার করেনি আইসিসি। আজ এ ব্যাপারে বিস্তারিত ঘোষণা আসার কথা। ওয়ানডে ক্রিকেটও এমন লিগ-ভিত্তিক হচ্ছে। তবে সেখানে দল থাকবে ১৩টি। আইসিসির এই লিগ ক্রিকেটের বাইরে দুই বোর্ড সমঝোতার ভিত্তিতে আরও সিরিজ খেলতে পারবে। ফলে অ্যাশেজের মতো আইকনিক সিরিজগুলো থাকতে বাধা নেই। কিন্তু তা লিগের পয়েন্ট তালিকায় যুক্ত সম্ভবত হবে না।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*