‘একদিন আমিও বাবু হয়ে যাব’

সন্তান জন্মের পর বড় হওয়া পর্যন্ত একজন বাবার অবদান কোনো নিক্তি দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। হাত ধরে হাঁটি হাঁটি পা করে হাঁটতে শেখা থেকে আরম্ভ করে অন্ন বস্ত্রের সংন্থান-সবই বাবা নিঃস্বার্থভাবে জোগান দিয়ে থাকেন। কিন্তু জীবনের একটি পর্যায়ে কখনো কখনো বাবা অপ্রত্যাশিতভাবে সন্তানের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়ান। যে সন্তানকে বাবা পরম যত্নে বড় করেছেন সেই সন্তানও একদিন বাবা হয়। তারপর দেখা যায় বাবা হওয়ার পর সে তার নিজের বাবাকে ভুলে যায়। তখন তার কাছে বৃদ্ধ বাবার তেমন কোনো মূল্য থাকে না। অথচ বাবারও যে বৃদ্ধ বয়সে সেবা যত্ন বা ভালোবাসা প্রয়োজন সেটা সন্তান ভুলে যায়। বাবা হতে গিয়ে বাবাকে ভুলে যায়। কোনো সন্তান যেন বাবা হতে গিয়ে বাবাকে ভুলে না যায় সে কথাই তুলে ধরতে বাবাকে নিয়ে বিজ্ঞাপন নির্মাণ করেছে ড্যান কেক। আশিকুর রহমান মিশু নির্মিত বিজ্ঞাপনটিতে বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম এবং ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন মনোজ কুমার।

বিজ্ঞাপন সম্পর্কে নির্মাতা আশিকুর রহমান মিশু এনটিভি অনলাইনকে বলেন,‘এটি মূলত বিজ্ঞাপন এজেন্সির দেওয়া কনসেপ্ট। তাদের দেওয়া কনসেপ্ট অনুযায়ী এটি নির্মাণ করেছি। বাংলার প্রচলিত একটি কথা আছে-স্নেহ নিম্নগামী। অর্থাৎ আমার যখন সন্তান হবে আমি তখন আমার বাবাকে ভুলে যাব। সন্তানকে নিয়ে ব্যস্ত থাকব। কিন্তু বাবার যখন বয়স হয় তখন বাবাও কিন্তু শিশুর মতো হয়ে যান। সেজন্য দেখবেন বিজ্ঞাপনে বাবা বলছেন, ‘একদিন আমিও বাবু হয়ে যাব, সেদিন আমাকে ভুলে যেও না।‘ বাবারা শরীরের দিক থেকে বড় হয়, তবে মনের দিক থেকে তাঁর বয়স কমে যায়। আমরা যারা সন্তান তারা বোঝার চেষ্টা করি না যে এই মানুষটা বাচ্চা হয়ে গেছে। দেখা যায় বাবার খুঁটিনাটি কিছু বিষয়ে আমরা বিরক্ত হয়ে যাই। যদিও আমরা সন্তানের বেলায় বিরক্ত হই না। নিজ সন্তানের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য পালন করতে গিয়ে বাবার কথা মাথায় রাখি না। বাবা হওয়ার পর যেন বাবাকে ভুলে না যাই সে বিষয়টাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছি।’

বাবাকে পুঁজি করে বহুজাতিক কোম্পানির পণ্যের প্রচারের বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?এমন প্রশ্নের উত্তরে মিশু বলেন,‘এখানে সেরকম ভাবে পণ্যের প্রচার করা হয়নি। আমরা বিজ্ঞাপনে বলিনি সন্তানকে ড্যান কেক খাওয়ান, বাবাকে ড্যান কেক খাওয়ান। কোথাও পণ্যের গুণগান গাওয়া হয়নি। অন্যান্য বিজ্ঞাপনে যেমনটি দেখা যায়। তবে যেহেতু ড্যান কেক বিজ্ঞাপনটির স্পন্সর করেছে তাই এখানে ড্যান কেকের নাম এসেছে। এ ছাড়া আর কিছুই না।’

সৈয়দ হাসান ইমামের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মিশু বলেনন, ‘এক কথায় অসাধারণ। তাঁর মতো একজন গুণী মানুষের সঙ্গে কাজ করা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। সত্যকথা বলতে তাঁর সঙ্গে কাজ করার সময় আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। তিনি আমাকে খুব সাহস জুগিয়েছেন। অনেক সহযোগিতা করেছেন। তাঁর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

এদিকে বাবাকে কেন্দ্র করে এমন বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ড্যান কেকের ব্র্যান্ড ম্যানেজার মিনহাজ বলেন,‘ড্যান কেক সবসময় পরিবার নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করে থাকে। মা দিবসে যেমন মাকে নিয়ে নানা রকম বিজ্ঞাপন করা হয় তেমন বাবা দিবসে আমরা চেয়েছিলাম বাবাকে নিয়ে কিছু করতে। কারণ দেখবেন মা দিবসে মাকে যতটা হাইলাইট করা হয়, বাবা দিবসে কিন্তু বাবাকে ততটা হাইলাইট করা হয় না। পরিবারে বাবার কিন্তু বড় ভূমিকা থাকে। চাকরি করছে। সংসার খরচ জোগান দিচ্ছে। বাবাদের কিন্তু একটা ফিলিংস থাকে। যা তারা প্রকাশ করতে পারে না। সন্তান যখন বাবা হয় তখন দেখা যায় বয়স্ক বাবার প্রতি খেয়াল কম দিচ্ছে। তখন বাবা একাকিত্বে ভোগে। কোন সন্তান যেন বাবা হওয়ার পর নিজের বাবার প্রতি পালনীয় কর্তব্যগুলো ভুলে না যায়, সে বোধ তৈরি করতে আমরা বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেছি।’

বাবার অনুভূতিকে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি পণ্যের প্রচারের কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না জানতে চাইলে মিনহাজ আরো বলেন, ‘একদমই না। আমরা এখানে কোনো পণ্যকে প্রচার করিনি। আমরা একমাত্র চেয়েছি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে। তবে আমাদের একটা ব্র্যান্ডিং রয়েছে। এর কারণ হলো, আমরা মানুষকে বোঝাতে চেয়েছি ড্যান কেক বাবাদের কথা ভাবে।’

রাজিন মনিরের চিত্র গ্রহণে, ইমোশন ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত এক মিনিট ত্রিশ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনটি ড্যান কেকের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করার পর প্রচুর সাড়া পায়। সেই সঙ্গে অসংখ্যবার মানুষ বিজ্ঞাপনটি মানুষ দেখে এবং শেয়ার করে। বিজ্ঞাপনটির শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন আশিক আল জ্যাকি।

[খবরটি এখান থেকে এসেছে]

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*